বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে ইতোমধ্যেই নির্বাচনের আবহ তৈরি হয়েছে এবং কোনো ধরনের বাধা বা অস্থিরতা ছাড়াই আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির প্রথমভাগ বা মধ্যভাগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে প্রতিহিংসা ভুলে একটি সুন্দর ও ভালোবাসার দেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির হলরুমে আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“আইনশৃঙ্খলা এখন যথেষ্ট ভালো রয়েছে। এমন কোনো পরিস্থিতি নেই যেখানে নির্বাচন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।”
বড় রাজনৈতিক দলে একাধিক প্রার্থীর প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“বিএনপি একটি বিশাল রাজনৈতিক দল—একটা স্রোতোশীল নদীর মতো। এখানে চার-পাঁচজন প্রার্থী থাকতেই পারে। এটা সমস্যা নয়; বরং বোঝা যায় দলটি বড় ও সক্রিয়।”
সংবিধান ও রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার
অন্তর্বর্তী সরকারের ছয়টি কমিশনের মাধ্যমে রাষ্ট্র কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন,
“আমরা এখন ফ্যাসিবাদী ও কর্তৃত্ববাদী অবস্থা থেকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ট্রানজিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট:
নতুন হলেও রাজনৈতিক দলগুলো একমত—এটি ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ নিশ্চিত করবে।
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা:
“এক ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না”— এ বিষয়ে দলগুলো নীতিগতভাবে একমত।
ক্ষমতার ভারসাম্য:
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় আনা হচ্ছে।
স্বাধীন বিচার বিভাগ:
বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করার ব্যাপারে সর্বসম্মতি রয়েছে।
তিনি এসবকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসন্ন ‘মৌলিক ও স্থায়ী পরিবর্তন’ বলে উল্লেখ করেন।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও লড়াইয়ের প্রত্যয়
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অত্যাচারের স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“১৫ বছরে বারবার মনে হয়েছে—আমি যদি আইনজীবী হতাম, এত নিপীড়ন হয়তো হতো না।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি আশাবাদী মানুষ। বহুবার জেলে গিয়েছি, কষ্ট করেছি; তবু লড়াই থামাইনি। লড়াই করলে একদিন না একদিন অবশ্যই বিজয় আসবে।”
নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান
নতুন প্রজন্মের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন,
“এনসিপির তরুণরা—ইয়াং বয়েজ—অনেক উদ্যমী। তাদের স্বাগত জানানো উচিত। আমাদের পরে দায়িত্ব নেবে এই নিউ জেনারেশনই।”
‘সমঝোতার মানুষ’ সমালোচনার জবাব
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘সমঝোতার মানুষ’ বলা হচ্ছে—এ বিষয়ে তিনি প্রশ্ন করেন,
“আর কতদিন যুদ্ধ করব? আর কতদিন মারামারি, হিংসা, খুন, জখমের মধ্যে থাকব? আমাদের এখন শান্তির পথে হাঁটার সময়।”
খালেদা জিয়ার প্রথম প্রতিক্রিয়া
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর কারাবন্দী খালেদা জিয়ার প্রথম প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি যে ছোট্ট ড্রাফটে সংশোধন দেন, তার প্রথম লাইন ছিল— ‘এখন আর কোনো প্রতিহিংসা নয়, প্রতিশোধ নয়।’”
তিনি বলেন,
“দুই হাজারের মতো মানুষ নিহত হলো, তিনি নিজে ছয় বছর কারাবন্দি—তারপরও প্রতিহিংসা নয় বললেন। এটা নেলসন ম্যান্ডেলার মতো নেতাদের উচ্চ মানবিকতার দৃষ্টান্ত।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত
সভায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক মকদুম সাব্বির মৃদুল, পিপি মো. আব্দুল হালিম, নারী ও শিশু আদালতের পিপি এন্তাজুল হক, ইউসুফ আলীসহ অন্যান্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।